নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিজ বাড়ি থেকে অপহৃত শিশু সাদমান সাকির বাবা সৈয়দ উমর খালেদ এপন বলেছেন, ‘আজ সাকির জন্মদিন। আজ ওকে আমাদের আনন্দ করার কথা কিন্তু আজ আমাদের ওকে ফিরে পাবার দাবিতে রাজপথে নামতে হচ্ছে। সাকিকে উদ্ধারের বিষয়ে প্রশাসন কিছু করতে পারবে না। তাদের কাছে গেলে বলে, ওরা শামীম ওসমানের লোক, আমাদের পক্ষে সম্ভব না। উপরের কিছু নির্দেশনার ব্যাপার আছে। আমার শাস্তি যা হবার হয়েছে। ওদেরকে বলেন, আমার সন্তানকে উদ্ধার করে দিতে।’
শনিবার (১৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে সাদমান সাকির জন্মদিনে তার উদ্ধারের দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘সাকি অপহরণের পরদিন আমি শামীম ওসমানকে ফোন করলাম। তাকে সব বললাম। ৭ দিন হয়ে যায়, তিনি বলেন আমি এসপিকে ফোন করেছি, আমি ওমুককে ফোন করেছি, সমুককে ফোন করেছি। আপনার মতো মানুষ যদি ফোন করতো, তাহলে আমার ছেলেকে বের করতে ২৪ ঘন্টার বেশি সময় নেয়ার কথা না। শামীম ওসমানের কাছে ১৫ মাস ধরনা দিয়েছি। জনসভার আগের দিনও আমি তার কাছে গেলাম। সে বলল, তুমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যাও একটি এপ্লিকেশন করে নিয়ে আসো। তারপর দেখো আমি কি করি। আমি বললাম, আপনি বিভিন্ন টকশোতে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিদিন আপনার কথা হয়। তাহলে এইটা আপনি যেকোনো সময় বলতে পারেন। এতোদিন কেন বললেন না?’
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এপন আরো বলেন, ‘সে জনসভা করে নারায়ণগঞ্জবাসীকে ভয় দেখালেন, না প্রশাসনকে ভয় দেখালেন, না রাব্বি ভাইকে ভয় দেখালেন, না আইভী ম্যাডামকে ভয় দেখালেন, বুঝলাম না। কিসের সভা করলেন, মাদক বিরোধী, ইভটিজিং বিরোধী। অপহরণ বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারলেন না। আপনি বিশাল জনসভা করলেন, গার্মেন্টসের মানুষ ভাড়া করে আনলেন, মুক্তিযুদ্ধাদের বেইচ্চা খাইলেন, এতো কথা বললেন। স্টেজের সামনে সাকির ফেস্টুন, একটিবারও তো আমার ছেলের কথা বললেন না। ২০০১ সালে আকাম-কুকাম করে নারায়ণগঞ্জ থেকে পালিয়ে গেলেন। এই দায়িত্ব পরল আমাদের কাঁধে, কর্মীদের কাঁধে। পুলিশ আমাদের মেরেছে, মামলা খেয়েছি, দীর্ঘদিন রাতে ঘুমুতে পারিনি। ৭ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতা এসেছে আর আপনি নারায়ণগঞ্জে এসে সাধু পুরুষ সাজলেন। কর্মীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে জনগণের নেতা সাজলেন।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল কাদির, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সংগঠনের সভাপতি হাজী নুরুদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজল, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজ, সাবেক ফুটবলার আজমত খন্দকার প্রমুখ।